ডেস্ক রিপোর্ট - রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ। টিকটক ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় খুলনা থেকে ভাড়াটে খুনি এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন—গোলাম রসুল শিহাব (২১), রাফিন শেখ (২০), শাহারিয়ার নাজিম জয় (২০), সাগর ফকির (২৬) এবং সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা (৩৮)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে রাকিবুল ইসলাম মোটরসাইকেল থামানোর পরপরই ৫-৬ জন যুবক তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পেছন থেকে পিস্তল দিয়ে একাধিক গুলি করে। পরে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তারা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করতে গিয়ে রাকিবের সঙ্গে জান্নাত মুন নামের এক তরুণীর পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে সম্পর্কের সন্দেহ থেকে মুনের স্বামীর পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন সাগর ওরফে সাকা খুলনা অঞ্চলের একটি ভাড়াটে খুনি চক্রের মূল হোতা। তার নেতৃত্বে এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় অন্য সদস্যরা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


0 coment rios: